এটা বাস্তব জীবনের গল্প,শুধু মাত্র গল্পের প্রয়োজনে কিছুটা সাজিয়ে গুছিয়ে লিখা হয়েছে।
ছেলে টা একটু গম্ভীর প্রকৃতির...
সারাদিন শুধু চুপচাপ থাকে কিন্তু ফেসবুক আর হোয়াটসঅ্যাপ এ বন্ধুদের সাথে কথা বলত.....
ওর চিন্তাধারার সাথে কখনও কারও মিলত না.....
আসলে কি ও একটু আবেগ প্রবন আর অল্পতেই ভেঙ্গে পড়ে ওর মনে শুধু একটাই হতাশা কাজ করত আমি হয়ত অনেক খারাপ তাই সবাই আমাকে অবহেলা করে......
তার সেই ভাবনাটা অনেক গভীর হতে থাকে যখন তার একটা ভাল বান্ধবি কোন কারন ছাড়াই তাকে ব্লক মারে.........
তখন আরও নিজেকে ছোট ভাবতে লাগে....
কিন্তু আস্তে আস্তে সে মনোবল পেতে থাকে তার আরেকটা ভাল বান্ধবি হ্রিদির কাছ থেকে......
নিলয় তার জীবনে যদি কারও সাথে বেশি কথা বলে থাকে সেটা তার এই বান্ধবির সাথে।
তার বর্তমানে ২জন প্রিয় বন্ধু হচ্ছে "হ্রিদি আর ঈরা"। তাকে যদি কেউ বুঝে থাকে তাহলে এই ২জন। সারাদিন কেটে যেত এদের সাথে চ্যাট করতে করতে কখনও তাদের সাথে সামনা সামনি ৫মিনিটও কথা বলেনি কারন টা ছিল সে একটু লাজুক টাইপ এর।
যাই হোক এইটা ছিল তার জগৎ তার মনে কখনও কোন মেয়ে আসেনি যদিও কিছু প্রস্তাব এসেছিল তাদের সবাইকে সে হেসেই উড়িয়ে দিয়েছিল। তার ভাবনা এরা কেউ তাকে সত্যিকার অর্থে ভালবাসতে চায়নি সবাই টাইম পাস করতে চেয়েছিল.......
সে মনে মনে এমন একজন কে চাইত যে তাকে বুঝবে মন থেকে ভালবাসবে......
আর ভাবত তার জন্য এমন কেউ কখনই আসবে না.....
এই ভাবেই চলতে লাগল তার জীবন.........
সাল ২০১৬ ফেব্রুয়ারি মাস সবে মাত্র এসএসসি পরীক্ষা শুরু...
নিলয় একদিন প্রাইভেট পরে বাসায় আসছে এর মাঝে তার বাসার কাছাকাছি এসে একটি মেয়েকে দেখে রীতিমত স্তব্দ মেয়েটি তার মা'র সাথে করে তাদের গল্লি থেকে বের হচ্ছে....
তাকে এক দেখায় নিলয় এর ভাল লেগে গেল এইদিন শুধু তাকে নিয়েই ভাবতে লাগল,কে এই পরি ওকে তো আগে এই এলাকায় দেখি নাই কে ও............
এর পরের পরীক্ষার দিন ঠিক একই সময় অপেক্ষা করে এই মেয়েকে দেখার জন্য কিন্তু আসল না......এমন করে আরো ২/৩ দিন দেখল কিন্তু তাকে দেখতে ব্যর্থ প্রচেস্টা চালায়.....
আর হল না দেখা কেন জানি সে অই মেয়েকে দেখার জন্য উন্মাদ হয়ে গেল কিন্তু হল না....
তার লাজুক মনোভাব এর জন্য কাউকে কিছু বলতে পারছিল না..
আস্তে আস্তে তার কথা ভুলেই যাচ্ছে চলে গেল ৩টি মাস.....
এসএসসি ফল প্রকাশ কলেজ এ ভর্তির জন্য সবাই হুরুহুরি তখনও সে মনে মনে ওই অজানা মেয়েটিকে খুজেই চলেছে.......
অতঃপর তার অপেক্ষার অবসান ঘটল আবার ঠিক একই জাগায় দেখল মেয়েটিকে....
তার মা তাকে নিয়ে কোথায় যেন যাচ্ছে।
.
.
নিলয় যাচ্ছিল প্রাইভেট পড়তে হঠাৎ তাকে দেখে কি করবে ভেবে পাচ্ছিল না.......
তার সাথে থাকা তার বন্ধুকে জিজ্ঞেস করল দোস্ত এই মেয়েটা কেরে চিনস তার বন্ধু তাকে বলল নাম-টাম জানি না আমাদের এখানেই থাকে......
তার বন্ধু তাকে বলতে থাকে কিরে তর কি পছন্দ হইসে....
সে একটু এড়িয়ে গেল তার কথা থেকে...........
নিলয় যে কখন সেই নাম না জানা অজানা মেয়েটিকে ভালবেসে ফেলেছে বুঝতেও পারেনি শুধু সে কারও কাছে প্রকাশ করতে চাইছিল না।
মাঝে মাঝে ফেসবুক এ নিলয় তার না বলা কিছু কথা পোস্ট করত.......
.
অজানা নাম না জানা মেয়েটি যেখানে থাকে সাথেই নিলয় এর বান্ধবি "ঈরা" থাকে....একদিন সে তাকে জিজ্ঞেস করল কিন্তু ঈরা মেয়েটিকে চিনল না..........
অইদিনই রাতে নিলয় হ্রিদির সাথে ব্যাপার টা খুলে বলল....
শুধু মাত্র অল্প কিছু তথ্য ছাড়া কিছুই জানত না সে মেয়েটির ব্যাপার এ.....
যা জানত বলল...
.
এরপরের দিনই তাকে হ্রিদি মেসেজ দিল দোস্ত তর প্রথম ক্রাশ এর খবর নিয়ে ফেলেছি....
সে বিশ্বাস করতে পারছিল না....পরে সব কিছু শুনে রীতিমত পাগল........
অনেক অপেক্ষার পর জানতে পারল তার সেই নাম না জানা অজানা পরির নাম "প্রিয়সী"
এই সেই মেয়ে যাকে নিয়ে একটা কল্পনার জগত তৈরী করে রেখেছে নিলয়............
এর পরের দিন তাকে সকালে কলেজরোড এ দেখে আরো পাগল হয়ে গেল..........
আবার এসে হ্রিদিকে জ্বালাতে লাগল হ্রিদি তাকে বলল ২৫ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে কারন ঈদ এর ছুটির জন্য কলেজ বন্ধ কলেজ খুললে বাকি সবকিছু জানতে পারবি........
.
দেখতে দেখতে কেটে গেল ঈদ এর ছুটি কলেজও খুলে ফেলল নিলয় আশায় ছিল অন্তত যে তার ফেসবুক আইডি টা পাবে কিন্তু হল না তার আশা পূরণ,জানতে পারল সে ফেসবুক চালায় না.....
নিলয় ধরে নিয়েছিল যে সে কখনো পারবে না তার প্রথম ভালবাসার মানুষ টার সাথে কথা বলতে।
সে হাল ছেড়ে দিলেও তার বান্ধবি যার কথা না বললেই নয় হ্রিদি সে আপ্রান চেস্টা চালিয়ে যেতে লাগল প্রিয়সীর সাথে নিলয় এর যোগাযোগ করানের জন্য।
কারন সে নিলয় কে বেশিদিন ধরে না চিনলেও এই ১বছর এ তাকে খুব ভালভাবে বুঝে গিয়েছিল নিলয় কেমন....আর নিলয় "হ্রিদি ও ঈরা" এর সাথেই সবকিছু শেয়ার করে কারন সে ভাবত তাকে এরা ২জন ছাড়া কেউ ভাল ভাবে বুজে না.......।।।।।
সত্যিই এরা ছাড়া ছেলেটাকে ভাল ভাবে কেউ চিনে নাই.......
যাই হোক অবশেষে হ্রিদির আপ্রান প্রচেস্টা সফল হল......
নিলয় তার প্রিয়সীর ফেসবুক আইডি পেয়ে গেল তার সব মনে জমে থাকা আশা পূরন হল.....
নিলয় প্রিয়সীকে খুব ভালভাবেই ভালবাসল......তার ভালবাসায় যে বিন্দুমাত্র খুদ ছিল না...।
নিলয় ভাবতে থাকে প্রিয়সীর তো নিজস্ব পছন্দের কেউও থাকতে পারে,তাকেই সে কেন অযথা ভালবাসতে যাবে,যাকে সে চিনে না জানে না
তবুও সে তাকে নিয়ে কল্পনা বন্ধ করেনা ।
তার প্রবল ইচ্ছা যে তার ভালবাসার মানুষ'টা তাকে অন্তত ভাল না বাসুক তাকে যেন চিনে তার সাথে যেন কথা বলে।
হেহ তার এই আশাটাও পূরন হল..
এখন সে তার প্রিয়সী'র সাথে প্রতিদিন ফেসবুক এ কথা বলে...
ওকে বুঝতে দেয়না যে সে তাকে চিনে জানে আর কতটা ভালবাসে ওর অজান্তেই
হয়ত নিলয় কখনো ওকে বলতে পারবে না সে তাকে কতটা ভালবাসে তাকে গোপনে...
সে সারাজীবন তাকে দূর থেকেই ভালবাসবে এবং সৃিষ্ট কর্তার নিকট প্রার্থনা করবে যেন তার ভালবাসার মানুষটা খুব ভাল থাকে আর তাকে নিয়ে যাতে কেউ ছলনা না করে...
তার মুখের সেই মিষ্টি হাসিটা যেন চিরকাল থাকে....
এইটাই সে চায় ।
নিলয় মাঝে মাঝে নিজেকে বলে কিরে যাকে এত ভালবাসিস তাকে বলবি না তর মন এর কথা......
উত্তর এ সে বলে যদি তার সাথে আমার বন্ধুত নষ্ট হয়ে যায়....
সে যদি আমাকে খারাপ ভাবে,তার চেয়ে ভাল তাকে দূর থেকেই ভালবাসি......
নিলয় এর কিছু না বলা আজব অনুভূতি..
"ফুলকে যেমন না ধরে দূর থেকে ভালবাসলে তার প্রতি ভালবাসা বেড়ে যায়"
তেমনি আমিও ওকে ভালবাসব ও আমাকে না ভালবাসলেও আমি ওকে সারাজীবন ভালবেসে যাব ।
ওর খুশিতেই আমার আসল ভালবাসার সার্থকতা নিহিত....
ভালবাসি আজীবন ভালবাসব
"এক কথায় ভালবাসতে ভালবাসি তোমায়" ।
ওআমাকে ঘৃনা করলেও আমি ওকে ভালবাসব...
মাঝে মাঝে সে বিশ্বাস করে যে
"if we made for each other"..
একদিন ঠিকই তুমি আবার হবেই আর আমার ভালবাসা সত্য হলে তুমি একদিন ঠিক বুঝবা আমি তোমাকে কতটা ভালবেসেছিলাম আজও বাসি ভবিষ্যতেও বাসব ..
তোমার জন্য আমি সারাটা জীবন অপেক্ষা করব যদি তুমি আমার হয়ে থাক তাহলে ঠিকই একদিন আমার জীবনে আসবে ।।।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন